মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নতুন শর্তে মুক্তির পথে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে আপাতত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশটির সার্বিক পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

৭৩ বছর বয়সি ইমরান খান প্রায় তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়াই তার কারাবন্দিত্বের অন্যতম প্রধান কারণ।

আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কারাগার থেকে মুক্তির জন্য সাধারণত গ্রহণযোগ্য ও নির্দিষ্ট কারণ প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে ইমরান খানের বয়স ও শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে ইমরান খানের চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এ ছাড়া গত কয়েক মাস ধরে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। সম্প্রতি তার মৃত্যুর গুজবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান বলেন, তাদের বাবা সাত মাসের বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।

তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি দাবি করেছেন, তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান খানকে একাকী রাখা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্য, বোন ও আইনজীবীদেরও নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইমরান খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি লন্ডনে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইমরান খানের মুক্তি নিয়ে কোনো সমঝোতা হলে তার সঙ্গে কিছু কঠোর শর্ত যুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে দেশত্যাগ, সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো শর্ত থাকতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খান এমন কোনো শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বলেন, ইমরান খান বরাবরই দৃঢ়চেতা ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাই রাজনৈতিকভাবে কঠোর কোনো শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তিনি মনে করেন। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে ইমরানের নিরাপত্তা ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করে একটি সমাধানের পক্ষে তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন