বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফ্যাসিবাদী সরকার মডেল মসজিদের নামে যা করেছে ‘তদন্ত হবে’

নিউজ ডেস্ক

মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে মসজিদভিত্তিক অনুসন্ধান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মূল প্রতিবেদন:
মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুকের (নোয়াখালী-২) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জয়নুল আবেদীন ফারুক সংসদে অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনি এলাকার সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রতিটি মডেল মসজিদ প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হবে। একটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় কীভাবে ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটিতে পৌঁছাল, প্রকল্পের মূল ব্যয় কত ছিল এবং মোট কতটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। তবে মডেল মসজিদ প্রকল্পে পদ্মা সেতুর মতো একই ধরনের দুর্নীতি হয়েছে—এমন দাবি তিনি করছেন না। তবুও ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণ একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও তার নির্বাচনি এলাকার দুর্গাপুর মডেল মসজিদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মসজিদটি এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে যেতে একটি সেতু পার হতে হয়, ফলে স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য এটি ব্যবহার করা সহজ নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, অতীতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় কম দেখিয়ে পরে তা একাধিক দফায় বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমাও বারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন