বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি থাকবে উচ্চ

অনলাইন ডেস্ক

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে পারে বলে মনে করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তবে এই পুনরুদ্ধারের গতি খুব দ্রুত হবে না বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তাদের সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের অর্থবছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানির দুর্বল প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রত্যাশার তুলনায় মন্থর ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা, ব্যবসা পরিচালনায় সংস্কার, কর প্রশাসনের উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এডিবির মতে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ অর্থনীতির দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বড় বাধা হয়ে থাকবে।

হালনাগাদ পূর্বাভাসে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অপরিবর্তিত রাখা হলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে যেখানে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দাম কমার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।

এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চাপের মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে, যা দেশের মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক ও বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন