বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাজার মূলধন বাড়লেও জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে শেয়ারবাজার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বেসরকারি খাতে দেশের শেয়ারবাজার থেকে অর্থের জোগান দিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে শেয়ারবাজারের আকার আরও ছোট হয়ে এসেছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ জিডিপির আকার অনুযায়ী শেয়ারবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত আরও সংকুচিত হয়েছে। যদিও বিদায়ী অর্থবছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি বেড়েছে।

গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৬ লাখ ৬২ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সব সিকিউরিটিজের বিপরীতে বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৬ হাজার ৪২১ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে সরকারি বন্ড বাদে অন্য সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৫ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।

গত ৩০ জুন শেষে এসব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা। আগের অর্থবছর শেষে যা ছিল ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। বাজার মূলধন এই বড় অংকে বাড়া সত্ত্বেও এক বছরের ব্যবধানে গত অর্থবছর শেষে জিডিপির আকার অনুযায়ী বাজার মূলধন অনুপাত ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তার বেশি হয়ে থাকে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোতেও এই অনুপাত ৫০ শতাংশ থেকে প্রায় সমান হয়। এই অনুপাত দেখে বুঝা যায় যে, একটি দেশের অর্থনীতির তুলনায় সেই দেশের পুঁজিবাজার কতটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন দেশেটি জিডিপির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। আর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের ‘মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি’ অনুপাত ৯১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে যার হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে। এখানে এটি স্পষ্ট যে, দেশের অর্থনীতির তুলনায় শেয়ারবাজার অবমূল্যায়িত হয়ে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দেশের শেয়ারবাজার যত বেশি শক্তিশালী, সেই দেশের অর্থনীতিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণও তত বেশি হয়। বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই বিনিয়োগ বাজারকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অথচ আমাদের দেশে প্রতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে শেয়ারবাজার পিছিয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে গুরুত্ব বাড়ানো উচিত। এতে দেশের শেয়ারবাজার সম্প্রসারণ হওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন