প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার একটি আত্মনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং কৃষিখাতকে জাতীয় সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সহজ করা এবং কৃষি উপকরণ সুলভে পৌঁছে দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতের ক্ষুদ্র ঋণ মওকুফ করেছে। এ খাতে চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার সুফল পাবেন প্রায় ১৩ লাখ কৃষক।
এছাড়া দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন, সুলভ মূল্যে সার সরবরাহ, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজ বিতরণ এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সেন্সর প্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং লবণাক্ততা কমানোর মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

