বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন ও সমন্বিত ‘বেসরকারি সার্ভিস রুলস’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন একটি বিধিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় ন্যূনতম বেতন, কর্মঘণ্টা, বিভিন্ন ধরনের ছুটি, নিয়োগপত্র বাধ্যতামূলক করা, হয়রানি প্রতিরোধ, চাকরির স্থায়িত্ব ও সার্ভিস বেনিফিটের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১০ মে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে মতামত দিতে ১৫ কর্মদিবস সময় দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি অনুবিভাগ) মোস্তফা জামানকে প্রধান করে এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজনের সুপারিশ করবে।
মোস্তফা জামান বলেন, বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, বাস্তবে অনেক কর্মী ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো কর্মী ছাঁটাই করছে। নতুন বিধিমালার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
শ্রম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমান শ্রম আইন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) স্বীকৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিশেষ করে গিগ ইকোনমি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কর্মীদের জন্য আলাদা কোনো সার্ভিস কাঠামো না থাকায় নতুন বিধিমালায় এসব বিষয়ও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশের মোট কর্মজীবী মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বেসরকারি খাতে নিয়োজিত। ফলে এ খাতের কর্মীদের জন্য সমন্বিত সার্ভিস রুলস প্রণয়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বেসরকারি খাতের বহুমাত্রিক কাঠামোর কারণে সবার জন্য অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত বিধিমালা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

