দেশে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জনমত তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন।
এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিছু গড়ে তুলতে হলে আলোচনা, পরিকল্পনা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি সংসদে হওয়া উচিত। শুধু রাজপথে হৈচৈ করে কিছু গড়ে তোলা যায় না। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সব মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তার মতে, এতে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।” তিনি জানান, সরকার স্কুল পর্যায়ে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
মতবিনিময় সভায় বিগত সরকারের সময়কার বিভিন্ন দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা দেখানোর ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এত দামের বালিশে আদৌ ঘুম হবে কি?”
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রদলের নেতারা।

