বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা, বছরে কত?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে নতুন খাত খুঁজছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাইভেটকার, জিপ ও সিএনজি অটোরিকশার মতো ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রেও বার্ষিক অগ্রিম আয়কর নির্ধারণ করা হতে পারে। এলাকাভেদে এই করের পরিমাণ ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য কর হতে পারে ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা।

লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কর আদায় করবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও সিসিভেদে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী:

১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে কর থাকবে না, ১১১–১২৫ সিসি: ২ হাজার টাকা, ১২৬–১৬৫ সিসি: ৫ হাজার টাকা, ১৬৫ সিসির বেশি: ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার।

এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে গত বছর “বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫”-এর খসড়া প্রণয়ন করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ। খসড়ায় বিআরটিএর মাধ্যমে নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়।

এ ছাড়া গত বছরের আগস্টে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন সংশোধনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনগুলোকে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলারের নিবন্ধন ও অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেল যেহেতু বৈধ যানবাহন এবং অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই এর ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ যৌক্তিক। এতে করজালের পরিধি বাড়বে এবং বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।

তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সরকারকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সংখ্যক ই-রিকশা যানজট ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কর আরোপের আগে সড়কের সক্ষমতা ও যানবাহনের উপযোগিতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকরা ফিটনেস নবায়নের সময় অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করেন, যা পরে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। একই সুবিধা নতুন প্রস্তাবিত খাতগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন