দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে টিকা পেয়েছে ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭০ শিশু। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭২, রাজশাহী বিভাগে ২০ লাখ ২০ হাজার ৩৭৩, রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১৯৬ এবং খুলনা বিভাগে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৪৬ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকাতেও ব্যাপক হারে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৮ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৯ শিশু টিকা পেয়েছে।
গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১২ এপ্রিল চারটি সিটি করপোরেশনে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে তৃতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কার্যক্রম চলবে ২০ মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত।
অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যেসব এলাকায় শতভাগ টিকা নিশ্চিত করা গেছে, সেখানে ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে। তিনি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই দেশে হামের প্রকোপ কমতে শুরু করেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অত্যন্ত বেশি এবং সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

