বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট।।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, সাময়িক স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সদস্য ও অর্থনৈতিক খাত কভার করা সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজারে অর্থের প্রবাহ সীমিত রাখা জরুরি। অতীতে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যা সুদের হার বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার এখন এমন একটি নীতিতে অবস্থান করছে যেখানে হাই পাওয়ার মানি বৃদ্ধি করে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি করা হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি কমবে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

অতীতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক সুবিধা সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা সঞ্চয় ও বিনিয়োগ—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে মানুষের ব্যক্তিগত খরচ কমবে এবং জীবনমান উন্নত হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে এ খাতের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগরি ও সৃজনশীল অর্থনীতিকেও মূলধারায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। বিনিয়োগ বাড়াতে নিয়ন্ত্রণ কমানো (ডিরেগুলেশন) প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি খাত নিয়েও গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী জানান, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন