ডেস্ক রিপোর্ট।।
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)। শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা বলেন, হামের বিস্তার ও মৃত্যুহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এটি এখন জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংগঠনটির মতে, কোনো রোগের বিস্তার যখন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সেটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, সরকার ইতোমধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। তবে এখনো পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হাম দ্রুত ছড়ায় এবং টিকা কার্যকর হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তাই রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ জরুরি।
তিনি আরও জানান, আগে প্রতি হাজারে তিনজন হামে মারা গেলেও বর্তমানে মৃত্যুহার বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে প্রান্তিক এলাকার শিশুরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ কাজী রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি জটিলতা প্রতিরোধে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনটি দ্রুত দেশব্যাপী গণটিকাদান কর্মসূচি, আক্রান্ত শনাক্তকরণ জোরদার, টিকা নিয়ে গুজব প্রতিরোধ এবং শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করে। পাশাপাশি পরিস্থিতিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।

