সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়ে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মৎস্য অধিদপ্তর নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলেরা সাগর থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরতে শুরু করেছেন।
দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে—
চরফ্যাশন: ১৭,৫৬১ জন, দৌলতখান: ১১,৫৫০ জন, মনপুরা: ১০,১৮৫ জন, লালমোহন: ৮,৮০৪ জন, বোরহানউদ্দিন: ৭,৬৫০ জন, তজুমুদ্দিন: ৪,৫০৬ জন, ভোলা সদর: ৩,৬৯৮ জন।
প্রতিটি নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ও মেঘনা নদীর সংযোগ খালগুলোতে দেখা গেছে, সাগর থেকে ট্রলার ফিরে আসছে। জেলেরা জাল মেরামত, ইঞ্জিন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলেরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সমুদ্রে টহল জোরদার করা জরুরি, যাতে কোনো ভিনদেশি জেলে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে না পারে। এতে নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের প্রাচুর্য বাড়বে বলে তাদের আশা।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা।
যথাসময়ে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত হলে জেলেরা এই ৫৮ দিন নির্বিঘ্নে কাটাতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

