চলন্ত ট্রেনে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হওয়ায় এখন দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনে এই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোডের মাধ্যমে যাত্রীরা সহজেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারছেন, কোনো জটিল সেটআপ ছাড়াই।
পরীক্ষামূলক সময়ে যাত্রীরা মোট প্রায় ১১ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে এই স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। অনেক যাত্রী যাত্রাপথে ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন কাজ এবং যোগাযোগ নির্বিঘ্নে করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।
পরীক্ষার সাফল্যের ভিত্তিতে এখন বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর পরিকল্পনা চলছে। ভবিষ্যতে একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলন্ত ট্রেনে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং দ্রুত মেরামতের সক্ষমতা নিয়ে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এগুলোকে মূলত পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ধাপে ধাপে সমাধান করা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্গম অঞ্চল যেমন হাওর, সীমান্ত এলাকা ও নেটওয়ার্কবিহীন স্থানে ইতোমধ্যে ১১১টি পয়েন্টে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব Bangabandhu Satellite-1 ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে, যা বর্তমানে টেলিভিশন সম্প্রচারসহ বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন ও দূরবর্তী অঞ্চলে ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

