ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) সরকার গঠন করেছেন। এরই মধ্যে এমপি এবং মন্ত্রীরা শপথ নিয়ে প্রাধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দপ্তর অনুযায়ী কাজ করছেন।
নির্বাচনে এককভাবে বিএনপি ২০৯ টি আসনে জয়লাভের পর সংরক্ষিত ৫০ টি আসনের মধ্যে ৩৫ টি আসন পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে বিএনপি ও দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেত্রিরা দৌড়ঝাপ এবং কেন্দ্রের সাথে লবিং শুরু করেছেন। বহুল প্রত্যাশিত সংরক্ষিত আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
বিধি অনুযাায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহনের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পঞ্চগড় ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেতে বেশ কয়েকজন নারী প্রতিযোগীতা শুরু করেছেন। তবে এবার পঞ্চগড়ে আলোচনায় এসেছেন চারবারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং পঞ্চগড় জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোছা. সুলতানা রাজিয়া (৪৮)। তিনি একাধারে নারী নেত্রী এলাকায় পুস্টি আপা।
এলাকার নারী ভোটার এবং দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নারীদেরকে পুস্টি বিষয়ে চাকুরি বিশাল অভিজ্ঞতা তার। টানা চারবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে পঞ্চগড়ের নারীদের সাথে সখ্যতা রয়েছে। একদিকে তিনি জেলা মহিলা দলের রাজনীতি করেছেন বিএনপি’র চরম দূ:সময়ে নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। আওয়ামীলীগের শত বাধার মুখেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। অপরদিকে এলাকায় নারীদের বিভিন্ন সমস্যায় রাতে বিরাতে নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে উদাহরন সৃস্টি করেছেন। এজন্য পঞ্চগড়ের নারীদের কাছে তিনি আস্থা ভরসার আপা হয়েছেন। কারন আওয়ামীলীগ আমলে বিভিন্ন সংকট মোকাবেলা করে সুলতানা তার জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দিয়েছেন। এজন্য বর্তমানে পঞ্চগড় থেকে যে কয়েকজন সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনয়নের জন্য তদবীর করছেন তাদের মধ্যে নারী নেত্রী হিসেবে সুলতানা রাজিয়া শীর্ষে রয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং নারী ভোটাররা বলছেন সুলতানা রাজিয়া একদিকে বিএনপি’র মূলদল এবং মহিলাদলে নেতৃত্ব দিয়েছেন অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সফল হওয়ার কারনে বার বার নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ন ইমেজ তৈরি করেছেন।
এছাড়াও বিএনপি’র দূর্দিনে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৪ সালে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ও দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক সড়ক অবরোধের মাধ্যমে রাজপথ অচল করে দেওয়ার আন্দোলনে স্বশরীরে জেলা উপজেলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর বার বার পুলিশি হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তখন প্রায় প্রতিদিনই তার বাড়িতে পুলিশি অভিযান হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন সুলাতানা রাজিয়া।
তৃনমুলেও রয়েছে এই নারী নেত্রীর গ্রহনযোগ্যতা। নারীদের জীবনমান উন্নয়নে তার জীবনের বিরাট সময় কাজ করেছেন তিনি গণসাহায্য সংস্থার অধীনে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকতা কেয়ার বাংলাদেশের আওতাধীন সমন্বিত পুস্টি প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন । নারীদের নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ২০১৪সালে তেঁতুলিয়া উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি ২০১৫ সালে পঞ্চগড় জেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সেই সাথে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদে আসিন হয় এই নারী নেত্রী।
সুলতানা রাজিয়া সাংবাদিকদের জানান বিগত ৩০বছর নারী সহ তৃনমূলে মানুষের সূখে দূ:খে পাশে ছিলাম । আমার রাজনীতি মানুষের কল্যানে তথা নারীদের কল্যানে প্রতিটি প্রদক্ষেপ। নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে তাদের পাশে দাঁড়াতে কখনো পিছপা হইনি। শহীদ আদর্শ বুকে ধারন করে আমি প্রায় দেড়যুগ ধরে বিএনপি’র রাজনীতি করেছি। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি তথা তারেক রহমান যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ হওয়ার সুযোগ পেলে আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বিএনপি’র জন্য জোড়ালো ভূমিকা এবং নারীদের উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করবো।

