বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জুনে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে এখানে পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোড করা হবে এবং জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, রূপপুর চালু হলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা এবং উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের কোল্ড রান, হট রানসহ সব গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট পরিদর্শন (ইন্সপেকশন) কার্যক্রম চলছে। এরপর ফুয়েল লোড করা হবে এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

গত রোববার (৮ মার্চ) রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এই স্থাপনা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে বিভিন্ন কারণে ব্যয় বেড়ে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায়। কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিলম্বকে ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্প বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কারণে প্রকল্পের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ইউনিটের কাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছরের ২০ জুন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, ফুয়েল লোডিংয়ের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। জুনে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে তা ১,২০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় গ্রিড লাইন প্রস্তুত করেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ সরবরাহ, ফ্রিকোয়েন্সি ও লোড ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালানো হবে।

উল্লেখ্য, গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তখন তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে বেশি ব্যয় হয়। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় ব্যয়বহুল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন