মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে গ্যাসবাহী চারটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও চারটি জাহাজ বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ওমানের সোহার বন্দর থেকে ২২ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ নামের একটি জাহাজ আজ রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ‘আল জোরা’ জাহাজটি ৬৩ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দরে পৌঁছায়। একই বন্দর থেকে ৬৩ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজটি ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে।
এছাড়া ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসা ‘জি-ওয়াইএমএন’ নামের আরেকটি এলপিজি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে বন্দরে পৌঁছেছে।
বন্দর সূত্র আরও জানায়, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে ৬২ হাজার ৯৮৭ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে আসা ‘লুসাইল’ জাহাজটি সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে। একই বন্দর থেকে রওনা হওয়া ৫৭ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন এলএনজি বোঝাই ‘আল গালায়েল’ জাহাজ ১১ মার্চ এবং ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি বহনকারী ‘লেব্রেথাহ’ জাহাজটি ১৪ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে মেরিন ইথানল গ্যাস (এমইজি) বহনকারী ‘বে-ইয়াসু’ জাহাজটি ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৫ মার্চ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মোট আটটি জাহাজ আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে চারটি ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে, একটি আজ পৌঁছানোর কথা এবং বাকি তিনটি পথে রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জেরে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশের বড় অংশের জ্বালানি আমদানির পথ এই প্রণালি হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

