বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সংকট মেটাতে দ্বিগুণেরও বেশি দামে ২ কার্গো এলএনজি কিনলো সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নির্ধারিত সময়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর পরিচালক (অর্থ) এ কে এম মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় দুটি এলএনজি কার্গো কেনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কার্গো আগামী ১৫ বা ১৬ মার্চ এবং আরেকটি ১৮ মার্চ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, “এলএনজি কিনতে এবার অনেক বেশি দাম দিতে হয়েছে। একটি কার্গো প্রায় দ্বিগুণ এবং আরেকটি দ্বিগুণেরও বেশি দামে কিনতে হয়েছে।”

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেট থেকে কেনা দুই কার্গো এলএনজি গত মাসে যেখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় কেনা সম্ভব ছিল, সেখানে এবার তা কিনতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান গানভোর গ্রুপ থেকে কেনা একটি কার্গোর প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম পড়ছে ২৮ দশমিক ২৮ ডলার। অন্যদিকে ভিটল কোম্পানির কাছ থেকে কেনা আরেকটি কার্গোর প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম পড়ছে ২৩ দশমিক ০৮ ডলার।

গানভোরের কার্গোর মোট মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ধরনের চালানের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন