বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বীমের পলেস্তারা ধস, আতঙ্কে রোগীদের বাইরে রাতযাপন

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের একটি বীমের পলেস্তারা ধসে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা শনিবার রাতে হাসপাতাল ত্যাগ করে বাইরে অবস্থান নেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় কেউ আর ওয়ার্ডে ফিরে যাননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে নির্মিত এই ভবনেই দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শুক্রবারের ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় তলার একটি বীমের অংশ ভেঙে পলেস্তারা নিচে পড়ে এক রোগীর গায়ে লাগে। এতে ওয়ার্ডে হট্টগোল শুরু হয় এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খেকুয়ানী গ্রামের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী তানিয়া আক্তার বলেন, হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। দেখি ছাদের পলেস্তারা পড়ে গেছে। সবাই ভয় পেয়ে বাইরে চলে যায়। আমিও বাচ্চাকে নিয়ে রাতভর বাইরে ছিলাম। ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের রোগী মোর্শ্বেদা জানান, ভবন থেকে চরচর শব্দ শুনে দৌড়ে নিচে নেমে যাই। পরে দেখি প্রায় সব রোগীই বাইরে চলে এসেছে। রোগীর স্বজন মো. শাহীন বলেন, পুরো ভবন কাঁপছে মনে হচ্ছিল। কেউ আর ভেতরে থাকতে সাহস পায়নি।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসা. মোর্শ্বেদা বেগম বলেন, ফাটা অংশ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে এক রোগী সামান্য আহত

হন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ভূমিকম্পে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। শনিবার রাতে দ্বিতীয় তলার একটি বীমের অংশ ভেঙে পড়ে। বিষয়টি বরগুনা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ভবনটির কারিগরি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন