বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পঞ্চগড়ে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগে স্ত্রী আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় গোলাম মোস্তফা (৩৫) নামে এক ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার সাথীর (২৯) বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ সাথীকে আটক করেছে।

 আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 জানা গেছে,আহত মোস্তফা ওই গ্রামের সুজাউল হকের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষক ও দিনমুজুর।

এদিকে স্ত্রী শারমিন আক্তার সাথী পুলিশি হেফাযতে পঞ্চগড় সদর থানায় রয়েছে। আর আহত মোস্তফার অবস্থা গুরুত্বর থাকায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিবাহ জীবনে এক মেয়ে সন্তান ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মোস্তফার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, রবিবার ভোর রাতে সেহরী খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। এদিকে মোস্তফাও সেহরী খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এর মাঝে ভোর ৬টার দিকে মোস্তফা বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি শুরু করে। এর পর পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তবে ঘটনার কারণ কি তা পরিবারটি জানাতে পারে নি।

এদিকে প্রায় ৬ মাস আগে আটক সাথী কারণ ছাড়াই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে পরিবারটির দাবি। তবে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনার পরেও বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে।

মোস্তফার বাবা সুজাউল হক বলেন, ভোরে ছেলে আমাদের ডাকাডাকি করলে আমরা আমাদের ঘরের দরজা খুলি। এর পর সে তার পুরুষাঙ্গ হাতে নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুঙ্গি তুলে আমাদের দেখায়। একই সাথে বৌমাকে কেটে দিয়েছে বলে আমাদের বলে। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় হাসপাতালে নিলে তাকে রংপুরে পাঠায় চিকিৎসক। আমার ছেলের সাথে এমন ঘটনায় আমি বিচার চাই।

এদিকে মোস্তফার ছোট ভাই বলেন, আমরা জেনেছি গতকাল শনিবার আমার ভাতিজির মাধ্যমে (আটক সাথীর মেয়ে) বিলেট কিনে আনে। আজ সেই বিলেট দিয়ে আমার ভাইকে শেষ করে দিয়েছে। ঘটনার পর আমরা বিলেটটি রক্তাক্ত বিছানার নিচে পেয়েছি। আর যেন কোন পরিবারে এমন ঘটনা না ঘটে এবং কেউ এমন ঘটনা ঘটানোর সাহশ যেন না পায় সে দিক বিবেচনা করে আমরা এর সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে কোন কথা বলছেন না। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন