অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ‘জুলাই সনদ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, গণভোটে বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সনদ কার্যকর হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগের মধ্যেও অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে।
বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়েছে।
জুলাই সনদ প্রণয়ন ও গণভোটে পাস করাতে ভূমিকা রাখা রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

