সংস্কার শেষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা-তেই উঠতে পারেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গণভবন-কে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপযুক্ত বাসভবন খোঁজা শুরু হয়। কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিতও করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে ড. ইউনূস যমুনা ত্যাগ করলে ভবনটি সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৩০০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য যেখানে ১৫১টি আসন প্রয়োজন, সেখানে দলটি দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন অর্জন করেছে।
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন—এমনটাই দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আবাসন নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি শেরেবাংলা নগরের দুটি স্থান বিবেচনায় নেয়—
সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এলাকা।
কমিটির মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন তুলনামূলক বেশি উপযোগী। বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও ওঠে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করে।
‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) ১৯৭৫’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি সরকারি বাসভবন নির্ধারিত থাকবে, যা সরকারের ব্যয়ে সজ্জিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো সরকারি বাসভবনের আসবাব, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরকারি বাসভবনে না থেকে নিজ বাসায় থাকতে পারেন; সে ক্ষেত্রে মাসে এক লাখ টাকা গৃহভাড়া ভাতা পাবেন। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোনসহ সব ইউটিলিটি বিল রাষ্ট্র বহন করবে। নিজ বাসায় থাকলে বছরে অতিরিক্ত তিন মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে গার্ডশেড নির্মাণের ব্যবস্থাও আইনে রয়েছে। দায়িত্ব ছাড়ার পর এক মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে ভাড়া ছাড়া থাকার সুযোগ থাকবে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আবাসন নির্ধারণ এখন সময়ের অপেক্ষা। যমুনা সংস্কার সম্পন্ন হলে সেটিই হতে পারে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা।

