বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নতুন এমপিদের শপথ কবে, পড়াবেন কে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটি ১৫০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। ফলে সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে পারে।

গেজেট প্রকাশের পরই শপথ

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারি ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শপথের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয় না; বরং গেজেট প্রকাশই এখানে মূল ধাপ।

সরকারি সূত্র বলছে, দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্টরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শপথ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে।

শপথ কে পড়াবেন?

স্বাভাবিকভাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শপথ পড়ান। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—শপথ পরিচালনা করবেন কে?

সংবিধান এ বিষয়ে দুটি পথ রেখেছে:

  • রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন

  • নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই শপথ সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এ ক্ষেত্রে কোনো শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে সংসদ সদস্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হন, রাষ্ট্রপতি তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন।

যেহেতু বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে ফলাফলে প্রতীয়মান হচ্ছে, সেক্ষেত্রে দলের সংসদীয় নেতা সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। সব প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন