খুলনা সদরের আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে দুই পক্ষের উত্তেজনা ও হট্টগোলের মধ্যে মহিবুজ্জামান কচি নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মহিবুজ্জামান কচি খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তার বাসা নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে আলিয়া মাদরাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন কচি। পরে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
তবে ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চল ও সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু দাবি করেন, আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া ধাক্কা দিলে মহিবুজ্জামান কচি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান এবং এতে তার মৃত্যু হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি অন্য কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কিছু নারী ভোটারকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা দেখতে পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে বলেন। কাউকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তিনি নাকচ করেন।
খুলনা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তার দাবি, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর কচি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সম্ভবত হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে এবং এটি তার দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভিডিওতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গেলেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার দৃশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

