শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আশুলিয়ায় গণঅভ্যুত্থানে ৬ লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক এমপিসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় জীবিত একজনসহ ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা এবং আরেকজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

একই রায়ে সাতজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুইজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন আসামিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি চিফ প্রসিকিউশনের লিংকের মাধ্যমেও সরাসরি দেখানো হয়।

রায় ঘোষণার দিন সকালে মামলার ১৬ আসামির মধ্যে আটজনকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।

অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

মামলায় ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি। প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান।

মোট ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আসামিপক্ষে একমাত্র সাফাই সাক্ষ্য দেন আসামি আরাফাত হোসেন। গত ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এবং ২০ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তি-খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারির দিন ধার্য করা হয়েছিল।

এই ঘটনায় শহীদ হন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। এর আগে ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন