আমতলীতে জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ
ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মাস্ক
পরিহিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায়
নারী ও প্রকল্প কর্মকর্তাসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের
মধ্যে ডালিম ও মঈনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার কারণে
কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন খাল খনন প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার
আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর উদ্যোগে
চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকায় খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের
লক্ষ্যে শনিবার বিকেলে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায়
প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির। এতে
সভাপতিত্ব করেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী
হাসান। সভায় আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলীসহ দুই শতাধিক
নারী-পুরুষ অংশ নেন।
অভিযোগ রয়েছে, সভা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর সোহাগ, নাশির, অসীম ও
মিরাজের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন মাস্ক পরিহিত সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে
সভাস্থলে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির
কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে এবং উপস্থিত নারীদের ওপর হামলা চালায়।
এতে নারী ও প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হন। হামলার মুখে সভা
পণ্ড হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা সভা চলাকালে হুমকি দিয়ে বলে,
‘বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।’ ভয়ের কারণে
প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির কর্মকর্তারা নিকটবর্তী একটি বাড়িতে
আশ্রয় নেন।
আহতদের মধ্যে ডালিমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং
মঈনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়েছে। অপর আহতরা ভয়ের কারণে চিকিৎসা নিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী জানান, সন্ত্রাসীরা এসে দাবি তোলে-
যুবদল নেতা রাকিবকে দাওয়াত না দিয়ে প্রকল্প করা যাবে না। এরপরই তারা
মারধর শুরু করে। হামলার সময় আতঙ্কে কয়েকজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আহত ডালিম বলেন, “কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
আমাকে ও আরও কয়েকজন নারী এবং অতিথিদের মারধর করা হয়।”
আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী জামান রাকিব বলেন,
“আমি চাওড়া ইউনিয়নে নির্বাচন করবো। এলাকায় কিছু হলে তা আমার জানা
থাকে। সেখানে কিছু যুবলীগ নেতাকর্মী সভা করছিল, তাই স্থানীয় লোকজন
গিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে।”
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী বলেন, “সন্ত্রাসীরা কেন হামলা
করেছে তা আমি জানি না। প্রকল্প পরিচালকের সামনে এমন ঘটনা অত্যন্ত
দুঃখজনক। এতে এলাকারই ক্ষতি হয়েছে।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন
বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।”
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.
রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, “একজন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি
করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী
বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলজিইডির বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন,
“সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে সভা শেষ না করেই আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে।
এমন ঘটনায় এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হবে।”
প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল কবির বলেন, “এই ঘটনায় জলবায়ু
প্রকল্পের খাল খনন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের
কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

