শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, দিতে হতে পারে জামানত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভিসা পেতে আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। এতে বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাম রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারবেন। নির্ধারিত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ না করেন বা বিমানবন্দরে প্রবেশে ব্যর্থ হন—তাহলে বন্ডের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।

এ ছাড়া বন্ডের আওতায় থাকা বাংলাদেশি ভিসাধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—বোস্টন লোগান, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য পথে প্রবেশ করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পাইলট প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান রোধ করা। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন