উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশটির পারিবারিক সমাধিসৌধে প্রকাশ্যে দেখা গেছে তার কন্যা কিম জু অ্যায়েকে। পিয়ংইয়ংয়ের কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সানে বাবা–মায়ের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তিনি কিম বংশের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কিম জু অ্যায়ে তার বাবা কিম জং উন ও মা রি সল জুর সঙ্গে দাদা কিম জং ইল এবং প্রপিতামহ, উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
ছবিগুলোতে দেখা যায়, ১ জানুয়ারির এই সফরে কুমসুসান সমাধিসৌধের মূল হলে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অবস্থান করেন জু অ্যায়ে। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিনি বাবা ও মায়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, যা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে পর্যবেক্ষকদের।
গত তিন বছরে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কিম জু অ্যায়ের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে কিম পরিবার চতুর্থ প্রজন্মের নেতৃত্বের জন্য তাকে ধীরে ধীরে জনসমক্ষে তুলে ধরছে।
২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কিম জু অ্যায়ের পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, যখন তিনি বাবার সঙ্গে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, তার জন্ম ২০১০-এর দশকের শুরুতে। চলতি বছরের নববর্ষ উদযাপনেও তাকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে দেখা গেছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে বাবার সঙ্গে বেইজিং সফরের মধ্য দিয়ে তার প্রথম বিদেশ সফর হয়।
এর আগে ২০২২ সালের আগে কিম জু অ্যায়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে খুব কম তথ্য জানা ছিল। ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের পর সাবেক এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যান প্রথমবারের মতো কিম জং উনের একটি সন্তানের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন।
উত্তর কোরিয়ায় কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হয় না। বরং জনসমক্ষে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বার্তা দেওয়া হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে একই সময়ে কিম জং উন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্প ঘোষণার পর উত্তর কোরিয়াও তাদের নির্মাণাধীন পারমাণবিক সাবমেরিনের ছবি প্রকাশ করেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
