বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নতুন বছরের আমেজে পর্যটকে সরগরম মৌলভীবাজার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নতুন বছরের আগম উপলক্ষে গত দুই সপ্তাহ ধরে পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। শীতের কনকনে আবহাওয়া আর সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ছুটে আসছেন চায়ের রাজধানীখ্যাত এই জেলায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান, শমশেরনগর গলফ মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যটকও ভ্রমণ করছেন এসব স্থানে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, শীত মৌসুমের ডিসেম্বর ও জানুয়ারির শুরুতে মৌলভীবাজারে পর্যটকের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। পর্যটকেরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘চান্দের গাড়ি’ নামের জিপে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার পর্যটক এই উদ্যানে প্রবেশ করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। জানুয়ারি ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভিড় অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটে বিশেষ টহল টিম মোতায়েন রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি মৌসুমে ব্যবসা প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক নজমুল ইসলাম বলেন, মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অনন্য। অল্প দূরত্বে একাধিক পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে উন্নত যোগাযোগ ও পর্যটক পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসান চৌধুরী জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে টুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন