বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আমতলীতে তরমুজ চাষির চার হাজার চারা নষ্টের অভিযোগ

রাশিমুল হক রিমন, আমতলী (বরগুনা)

রাশিমুল হক রিমন, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামে তরমুজ
চাষি রিয়াজ প্যাদার চার হাজার তরমুজ চারায় আগাছা দমননাশক ওষুধ
প্রয়োগ করে চারা নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার গভীর
রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ প্যাদা
দীর্ঘদিন ধরে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি গুলিশাখালী
ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের মফিজ ফকিরের কাছ থেকে তিন একর জমি
এক বছরের জন্য ৪০ হাজার টাকায় বন্দোবস্ত নিয়ে তরমুজ চাষ শুরু করেন।
ওই জমিতে তিনি প্রায় চার হাজার তরমুজ চারা রোপণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, জমি প্রস্তুতের সময় একই গ্রামের নজরুল ইসলাম মুন্সি
তরমুজ চাষে বাধা দেন। এ ঘটনায় রিয়াজ প্যাদা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ
ঘটনাস্থলে গিয়ে চাষাবাদে কোনো বাধা না দিতে নির্দেশ দেয়। এর পর তিনি
জমিতে তরমুজ চারা রোপণ করেন।
কিন্তু বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ওই জমিতে থাকা চার হাজার তরমুজ
চারায় আগাছা দমননাশক ওষুধ প্রয়োগ করে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে
গিয়ে চারা ঢলে পড়তে দেখে রিয়াজ প্যাদার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়
লোকজন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে
আগাছা দমননাশক ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে দাবি করা
হয়।

তরমুজ চাষি রিয়াজ প্যাদা বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি বন্দোবস্ত নিয়ে
তরমুজ চাষ করেছি। নজরুল মুন্সি আগে থেকেই আমার চাষাবাদে বাধা দিয়ে
আসছিলেন। বুধবার রাতে তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার চার হাজার
তরমুজ চারা নষ্ট করে দিয়েছে। এতে আমার অন্তত দুই লাখ টাকার ক্ষতি
হয়েছে। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মুন্সি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কেন তার তরমুজ
ক্ষেতে আগাছা দমননাশক ওষুধ দিতে যাব?”
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, “তরমুজ
ক্ষেতে আগাছা দমননাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে
ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে চারা ভালো
করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন
বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে
তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন