বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অবস্থান। হামলায় তাৎক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, হামলার এক দিন আগে সৌদি আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্প্রতি দখল করা অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর হামলা চালানো হয়।

হাদরামাউতের ওয়াদি নাহবে এলাকার হাদরামি এলিট ফোর্সেসকে লক্ষ্য করে দুটি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার সময়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং সাদা রঙের কয়েকটি চারচাকা গাড়ি দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি স্থানীয় রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের ভেতরে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সৌদি আরব ও ইউএইয়ের সমর্থনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি), যারা স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্র পুনরুজ্জীবনের দাবি করে, দেশের বড় অংশে দখল নেয়। এতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসটিসি জানায়, সৌদি বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছে সকাল ৮টা ও ৯টা ১৫ মিনিটে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার একই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সৌদি সমর্থিত এক উপজাতীয় নেতার সংঘর্ষ ঘটে, যাতে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেন সংকটের মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান হামলার বিরুদ্ধে শান্তি ও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সতর্ক করে বলেছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অগ্রগতি নতুন সংঘাত এবং বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইয়েমেনের সংঘাত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে উৎখাত করে এবং উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নেয়। ২০১৫ সাল থেকে ইরান সমর্থিত হুথিরা ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধে দেশটি ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও সংঘর্ষের মাত্রা এখনও সম্পূর্ণ থামেনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন