আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ নতুন নীতিমালা জারি করেছে। ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ নামে এই নীতিমালায় নির্বাচনী প্রার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং সংসদ প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স এবং রিটেইনার নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। রিটেইনার বলতে এমন ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে, যিনি অনুমোদিত সশস্ত্র রক্ষী হিসেবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
নীতিমালায় লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রার্থীর রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হতে হবে, মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। রিটেইনার হিসেবে কেবল ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব, অপরাধমুক্ত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া যাবে।
লাইসেন্সের মেয়াদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। রিটেইনার নিয়োগও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং রিটেইনারকে নিজের অস্ত্র বহন করার সুযোগ থাকলেও লাইসেন্স সরাসরি দেওয়া হবে না; অস্ত্র ব্যবহার ও দায়ভার লাইসেন্সধারীর ওপরই থাকবে।
নীতিমালায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, অস্ত্র কেবল নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ব্যবহার করতে হবে। কাউকে ভয় দেখানো বা হয়রানি করা যাবে না। লাইসেন্স ও অস্ত্র অন্যত্র হস্তান্তর করা যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
সরকারের এই নতুন নীতিমালা নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

