শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

হাদি হত্যাচেষ্টা: সীমান্ত পারাপার চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। এ নিয়ে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিজয়নগর এলাকায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় খুব কাছ থেকে হামলাকারীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের ধরতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

অতিরিক্ত কমিশনার জানান, হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে সরকার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এর মালিককে র‍্যাব আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজনদের কেউ বিদেশে পালিয়েছে—এমন তথ্য এখনো ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ বিদেশযাত্রার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন এবং এরপর আর দেশত্যাগ করেননি।

হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষ সংগঠক হিসেবে ওসমান হাদি একটি পক্ষের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বাদীপক্ষ ব্যস্ত থাকায় মামলা দায়ের বিলম্বিত হলেও প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানান নজরুল ইসলাম।

নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধে সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–টু’ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। অভিযানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে অস্ত্রধারী ও সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনা।

জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সব জুলাই যোদ্ধার জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্মুখসারির ব্যক্তিদের জন্য আলাদা করে থ্রেট অ্যানালাইসিস করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেষে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ জানায়, কোথাও সন্ত্রাসী বা অস্ত্রধারীর তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত পুলিশ বা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর জন্য। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন