কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক শান্তর (২০) মরদেহ অবশেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিকেল ৪টার দিকে জামালপুর সীমান্ত পিলার ১৫২/৭ এস মেইন পিলারের কাছে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারতের নিউ উদয় ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা নিহত শান্তর মরদেহ বিজিবির কাছে বুঝিয়ে দেয়।
নিহত শান্ত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের শিপন আলীর ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর রাতে শান্ত ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে জামালপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের ভেতরে প্রায় ৫০০ গজ প্রবেশ করেন। এ সময় বিএসএফের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে শান্ত গুলিবিদ্ধ হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শান্তকে উদ্ধার করে বিএসএফ তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৫ ও ৮ ডিসেম্বর দুই দফা বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার পর শনিবার মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সম্মতি হয়। বিজিবি জানিয়েছে, নিহত শান্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, “শনিবার বিকেলে বিএসএফের কাছ থেকে শান্তর মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

