ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও অর্থনৈতিক নীতি ব্যর্থতার অভিযোগের মুখে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পার্লামেন্টে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবে ভোট গ্রহণ শুরুর ঠিক আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
দেশটি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ইউরোজোনে যোগ দিতে যাচ্ছে, আর তার আগমুহূর্তে এ পদত্যাগকে বড় রাজনৈতিক ঘটনাই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে ঝেলিয়াজকভ বলেন,
“জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বসে বর্তমান পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছি। জনগণ আমাদের কাছে যে প্রত্যাশা রাখে আমরা সেই উচ্চতায় থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন,
“ক্ষমতার উৎস জনগণ—এটি আমরা কখনো ভুলে যেতে পারি না।”
বুধবার রাতে রাজধানী সোফিয়া ও বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বহু বছর ধরে চলমান দুর্নীতি দমন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ সম্প্রতি নতুন করে তীব্র হয়েছিল।
গত সপ্তাহে বিক্ষোভের মুখে সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়— যা প্রথমবারের মতো ইউরো মুদ্রায় প্রস্তুত করা হয়েছিল। সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা ও লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
বাজেট প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভ থামেনি। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে।
সপ্তাহের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভ সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন—
“জনগণের কণ্ঠস্বর আর মাফিয়ার ভয়ের মধ্যে—চত্বরগুলো যে কথা বলছে, তা শোনো!”
বুলগেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত। এখন তিনি সংসদে দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়োগ করবেন, যা পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

