বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের রেকর্ড নিট মুনাফা, চিনি বিভাগে এখনও চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের বেশিরভাগ চিনিকল টিকে থাকার লড়াই করছে, তবু চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেকর্ড নিট মুনাফা অর্জন করেছে। নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, যা প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ১১২ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

তবে চিনি বিভাগের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে এই বছরও ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, “আমরা মুনাফা করলেও তা মূলত ডিস্টিলারি (মদ উৎপাদন) বিভাগ থেকে এসেছে। চিনি বিভাগ বহু বছরের সমস্যার সম্মুখীন—রিকভারি রেট কম, আখের গুণগত মান নিচু এবং কিছু যন্ত্রপাতি পুরোনো।”

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার আধুনিকায়ন প্রকল্প (বিএমআরআই) সম্পন্নের পথে আছে। নতুন আধুনিক কারখানা অটোমেটিক পদ্ধতিতে চালু হলে চিনি বিভাগের লোকসান কমবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এমডি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ চিনি খাদ্য করপোরেশনের চেয়ারম্যান রশিদুল হাসান এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও উল্লেখ করেছেন, টেকনোলজি ও উচ্চফলনশীল আখের জাতের মাধ্যমে চিনিকলগুলোর পুনরুজ্জীবন সম্ভব। আখ চাষিরাও বলেন, শুধু কারখানাই নয়, মাঠে আধুনিক বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছয়টি বিভাগের মধ্যে পাঁচটিতে লাভ হয়েছে। ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ১৯০ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, এছাড়া জৈবসার, বাণিজ্যিক খামার, পরীক্ষামূলক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগ থেকেও সামান্য লাভ হয়েছে। চিনি বিভাগের লোকসান বাদেও সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হয়েছে ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরুর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে দেশের চিনি খাতে এটি একটি মডেল কারখানা হিসেবে কাজ করতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন