১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের রেকর্ডকৃত ভাষণ একযোগে প্রচারিত হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বুধবারই সিইসির তফসিল ঘোষণার ভাষণ রেকর্ড করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার তারিখ ও সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের দিন নিয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখেছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্ভাব্য দিনের মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচিত হলেও বিকল্প তারিখও চূড়ান্ত হতে পারে।
রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাব্য সময় ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি। রোজার আগে অন্তত এক সপ্তাহ হাতে রাখতে চায় ইসি, যাতে নির্বাচন-পরবর্তী স্থগিত কেন্দ্র বা আসনের ভোটও শেষ করা যায় এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রমজানের আগে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এদিকে শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি। সরকার সাধারণত এ দিনের আগে ভোট নেয় না। ফলে শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিককার সপ্তাহেই ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাগেরহাট ও গাজীপুরের দুটি আসন নিয়ে হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে ইসির সচিব জানিয়েছেন, এখনো রায় হাতে না পাওয়ায় গেজেটভুক্ত ৩০০ আসনকেই আপাতত তফসিলের আওতায় রাখা হবে। আদালতের রায় হাতে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।
বুধবার বিকেল ৪টায় নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সিইসি ভাষণ রেকর্ড করেন। এরপর কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন তিনি। ইসির একজন কর্মকর্তা জানান, যাতে রমজানে কোনো পুনঃভোট বা স্থগিত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ না চলে যায়—সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে কমিশন।
এ পর্যন্ত দেশে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ৪ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার সরকার গঠন করেছে।
সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে—৮৭ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে—মাত্র ২৬.৫ শতাংশ।

