মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পোলট্রি খাতে অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের হাঁস–মুরগির খামারগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগিকে দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব ৭ থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই মুরগি বাজারজাত করায় মানবদেহে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজাল প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলা—এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল।

খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বড় পোলট্রি কোম্পানিগুলো কিছুটা সতর্ক থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছোট ও ‘চোরাগোপ্তা’ খামার এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এসব খামারে নজরদারিহীনভাবে ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে, যা সরাসরি খাদ্যসুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে মাছ ও দুগ্ধজাত পণ্যেও ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “খাদ্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই নিরাপত্তার বিষয়টি ভুলে যাচ্ছি। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকেও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা থাকা জরুরি।”

পোলট্রি খাতকে নজরদারির আওতায় আনা, অবৈধ কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য শৃঙ্খলে রাসায়নিক দূষণ প্রতিরোধে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন