বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শ্রীলঙ্কায় নতুন করে ভূমিধসের শঙ্কা, পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার আঘাতের এক সপ্তাহ পেরোলেও শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। টানা বর্ষণের চাপ সামলাতে না পেরে দ্বীপজুড়ে পাহাড়ি ঢাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় রোববার (৭ ডিসেম্বর) নতুন করে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)।

ডিএমসি জানায়, কেন্দ্রীয় পার্বত্য অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতে নতুন ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। বহু অঞ্চলে পাহাড়ি গ্রাম ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।

দিতওয়ার তাণ্ডব থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২০ লাখের বেশি মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। কেবল চা-বাগান অধ্যুষিত কেন্দ্রীয় অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬৪ জন।
এখনো ২০৯ জন নিখোঁজ।

শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রোববার মিয়ানমার থেকে ত্রাণবাহী একটি বিমান কলম্বোয় পৌঁছেছে। এর আগে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ জরুরি সহায়তা পাঠিয়েছে।

জলস্তর কমতে শুরু করায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা কমে এক লাখে নেমে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি; এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

শুক্রবার দেশটির সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য বৃহৎ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক হিসাবে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে মন্তব্য করেন,
“২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়ালেও দিতওয়ার ধাক্কা সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।”

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কাকে অতিরিক্ত ২০ কোটি ডলার সহায়তার অনুরোধ বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি চার বছরের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি মাসে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছাড় করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

লঙ্কান অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সর্বোচ্চ এক কোটি রুপি দেওয়া হবে। প্রাণহানি বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ রুপি।

ডিএমসি সতর্ক করেছে, সামনে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফিলিপাইনের পূর্ব দিকে নতুন একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দুর্বল হয়ে পড়া অঞ্চলে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন