হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে স্থবির অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই মাস আগে যে নাজুক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা টিকিয়ে রাখতে উদ্যোগী হয়েছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে তারা নতুন কাঠামো তৈরি করে পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হলে হামাসের পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গাজার প্রশাসন পরিচালনা করবে। পাশাপাশি গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প শিগগিরই অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে কোন কোন দেশ অংশ নেবে—তার তালিকা প্রকাশ করতে পারেন।
এখনও কোন রাষ্ট্র কীভাবে অংশ নেবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বছরের শেষ দিকে নতুন সরকারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। কারণ হামাস কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এবং অস্ত্র জমা দেবে—এই প্রশ্নে মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলমান।
হামাস জানিয়েছে,
তারা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষমতা দিতে রাজি।তবে ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’—যার সঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নাম জড়িয়েছে—তার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না।
হামাস আরও স্পষ্ট করেছে—
রক্ষণাত্মক অস্ত্র তারা জমা দেবে না।
তাদের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এখনো দখলদার ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ ধরনের অস্ত্র রাখা তাদের অধিকার।
দুই মাস আগে যুদ্ধবিরতি হলেও এর পরপরই হামাস নীরবে আবারও গাজার বহু অংশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, বলছে টাইমস অব ইসরায়েল।

