বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

‘ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থাকে ঘিরে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তার ছেলে কাসিম খান অভিযোগ করেছেন, ইমরান খান টানা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেল’-এ রাখা হয়েছে। পরিবারের কাউকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না—এমনকি আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও।

কাসিম বলেন, তার বাবার সঙ্গে পরিবারের “কোনো যোগাযোগ নেই” এবং “জীবিত থাকারও কোনো প্রমাণ” তাদের কাছে নেই। তিনি অভিযোগ করেন, এটি নিরাপত্তার অজুহাত নয়; বরং ইচ্ছাকৃতভাবে ইমরান খানের অবস্থা গোপন করার চেষ্টা।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তার দাবি, পাকিস্তানের “সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাকে অমানবিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে” এবং এ অবস্থার দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে।

ইমরান খানের বোন নুরিন নিয়াজি বলেন, পাকিস্তানে ভয়াবহ সেন্সরশিপ চলছে। তার অভিযোগ, সাংবাদিক ও মিডিয়া মালিকদের আটকানো হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি কয়েকজন পরিচিত সাংবাদিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

নুরিন বলেন, “হিটলারের সময়ের কথা পড়েছি… পাকিস্তানে এখন সেই দৃশ্যই যেন ফিরে এসেছে।” তার ভাষায়, শাহবাজ শরিফের সরকার “অজনপ্রিয়, দুর্বল এবং দমনমূলক।”

খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি টানা অষ্টমবার ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন। ২৭ নভেম্বর আদিয়ালা জেলের সামনে ধর্ণা দিতে গেলে পুলিশ তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে না এবং খানের বোন, আইনজীবী ও চিকিৎসকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

পিটিআই নেতারা—জুলফি বুখারি ও মেহর বানো কুরেশি—ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে “পরিষ্কার, স্বচ্ছ ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি” দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইমরান খান “সম্পূর্ণ সুস্থ”, তাকে কোথাও স্থানান্তর করা হয়নি এবং কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরান খান কারাগারে মারা গেছেন—এমন ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবি নিশ্চিত করেনি।

গুজব আরও ব্যাপক হয় যখন ইমরানের তিন বোন অভিযোগ করেন, জেলগেটে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সময় পুলিশ তাদের ওপর “পরিকল্পিত হামলা” চালায়। তাদের দাবি, স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নুরিন নিয়াজি এতে আহত হন।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, আদিয়ালা কারাগারের সাক্ষাৎ-সংক্রান্ত বিষয়ে তার “কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।” অন্যদিকে ইমরান খান পূর্বেই অভিযোগ করেছিলেন, জেলের সমস্ত কার্যক্রম একজন সেনা কর্নেলের নিয়ন্ত্রণে চলছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন