নারায়ণগঞ্জের প্রখ্যাত টানবাজার এক সময় সারা দেশে সুতা সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এখন সেই দিনগুলি যেন অতীতের স্মৃতি। বছরের ব্যবধানে প্রায় পাঁচ শতাধিক সুতা ব্যবসায়ী এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু কারখানা, আর কর্মীসংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যারা এখনো কাজে আছেন, তাদের বেতনও অনেক কমে গেছে। পূর্বে যে ওভারটাইম সুবিধা ছিল, এখন তা নেই। অনেক স্পিনিং মিল উৎপাদন কমিয়েছে এবং শ্রমিক ছাঁটাইও শুরু হয়েছে।
আফসানা নামের এক শ্রমিক বলেন, “আগে মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতাম। এখন ১২ হাজার টাকা পাই। ওভারটাইম নেই। এই বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন।” অন্য শ্রমিক শরীফ বলেন, “যেখানে আগে ২০০টির বেশি সুতা কারখানা ছিল, এখন ২০টিরও কম। কাজ কমে গেছে। ভবিষ্যতে কোথায় কাজ করব তা নিয়ে শঙ্কা।”
বাজারে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতসহ বড় দেশগুলো বন্ডের মাধ্যমে মাল ঢুকাচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও, সরকারি ভর্তুকি সুবিধার সঠিক প্রভাব পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সিরাজুল হক হাওলাদার বলেন, “আমাদের ব্যবসা বাপ-দাদার যুগ থেকে চলে আসছে। এখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা না থাকায় ব্যবসা মন্দা হচ্ছে। গার্মেন্টস খাত ভালো না থাকলে আমাদের ব্যবসার ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।”
অন্যদিকে মেসার্স মুজিব এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর মজিবুর রহমান জানান, “দুই বছর আগে পরিস্থিতি ভালো ছিল। এখন একেবারে সংকট। ব্যবসায়িক নিশ্চয়তার জন্য নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।”
ইয়ার্ন ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরের শেষ ছয় মাসের মধ্যে আরও অনেক গার্মেন্টস ও কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়বে।

