আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ফরিদপুরে রাজনৈতিক এবং ছাত্র-আন্দোলন গোষ্ঠীর মধ্যে দুই ভিন্ন সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা সমর্থন ব্যক্ত করে আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন, অন্যদিকে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেল বহর মিছিল করেছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হন। তারা “বিরোধিতা নয়, বিচার চাই” ধরনের স্লোগান দিয়ে রায়কে স্বাগত জানায় এবং উপস্থিতদের মধ্যে মিষ্টি বিলুপ্তি করে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। ছাত্রলীগের নয়, বরং এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ছিলেন কাজী রিয়াজ, আনিসুর রহমান সজল, এনামুল চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আর এম হৃদয়, নাইমুল ইসলাম শাকিব ও নাজমুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকেও একটি স্বাগত মিছিল সংগঠিত হয়। একাধিক মোটরসাইকেলে অবস্থান করে তাদের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রায় ঘোষণাকে উদযাপন করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতের রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বিশেষত জুলাই গণঅভ্যুত্থান সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার দায় প্রতিষ্ঠা করেছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফরিদপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্ট হলেও সামাজিক আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হলেও উভয়েই তাদের অবস্থান প্রবলভাবে তুলে ধরেছে।

