কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি ডাকাত ও অপহরণচক্রের তৎপরতা বাড়ায় বাহারছড়া ইউনিয়নে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত হলে গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক নারী, শিশু ও প্রবীণ মানুষ স্থানীয় মসজিদে রাত কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে পুরুষ ও তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমে রাতজেগে পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ইউনিয়নের বেশিরভাগ বসতি পাহাড়ঘেঁষা হওয়ায় ডাকাত দল সুযোগ পেলেই গ্রামে হামলার চেষ্টা চালায়। অনেক সময় বাড়ি-ঘরে ঢুকে মূল্যবান জিনিস না পেলে বাড়ির লোকজনকেই অপহরণ করে নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক থেকে শুরু করে শিশুরাও অপহরণের শিকার হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে শীলখালী ও চৌকিদারপাড়া এলাকায় রাত নামলেই ২০–৩০ জনের অস্ত্রধারী ডাকাত দল পাহাড় থেকে নেমে ডাকাতি ও অপহরণের চেষ্টা করছে। এতে পুরো এলাকায় চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। চৌকিদারপাড়ার বাসিন্দা নুরে আলম জানান, “রাত হলে পরিবার নিয়ে আর ঘরে থাকতে পারি না। মসজিদের উঠানে রাত কাটাতে হচ্ছে।”
শীলখালীর বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, “পরশুদিন ডাকাতেরা গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।” স্থানীয় যুবকরাও জানাচ্ছেন, গত দুই রাত তারা পাহারায় রয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি শীলখালী জুমপাড়ায় ১০–১৫ জনের একদল ডাকাত শিশু ইমরান খান নয়নকে অপহরণ করে। পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর গ্রামবাসী চাপ সৃষ্টি করলে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় অপহরণকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও উখিয়া–টেকনাফ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, “বাহারছড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, “সংবাদ পেয়ে পরশু রাতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। এলাকায় টহল ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”

