মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন, দেশটির প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত ২,০০০ ডলার দেওয়া হবে। প্রশাসনের শুল্ক রাজস্ব থেকে অর্থটি সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য জনসমর্থন পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতিকে সতেজ রাখা।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “প্রতি নাগরিককে ২,০০০ ডলার দেওয়া হবে। যারা বিরোধিতা করছে তারা ‘বোকার মতো আচরণ করছে।’ তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।”
এই প্রস্তাবের আগে মিজৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি চলতি বছরের শুরুতে একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন, যা প্রায় সব আমেরিকান ও শিশুদের জন্য ৬০০ ডলারের শুল্ক ফেরতের প্রস্তাব করেছিল। হাওলি বলেছিলেন, বাইডেন প্রশাসনের নীতির কারণে আমেরিকান পরিবারের সঞ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২,০০০ ডলারের চেক দিতে খরচ হবে প্রায় ৩০০–৫০০ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান শুল্ক রাজস্বের তুলনায় দ্বিগুণ। ট্যাক্স ফাউন্ডেশনের এরিকা ইয়র্ক বলেন, “যদি একক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যোগ্যতা সীমা এক লাখ ডলার ধরা হয়, প্রায় ১৫ কোটি মানুষ এই চেকের জন্য যোগ্য হবেন। শিশুদের অন্তর্ভুক্ত হলে খরচ আরও বাড়বে।”
ইয়েল বাজেট ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে মার্কিন ভোক্তারা গড়ে ১৮ শতাংশ কার্যকর শুল্কহার পরিশোধ করেছেন, যা ১৯৩৪ সালের পর সর্বোচ্চ। ট্রাম্পের এপ্রিল মাসে আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং কোম্পানিগুলো এই ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আগেই জানিয়েছিলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো জাতীয় ঋণ কমানো। শুল্ক থেকে আদায় করা অর্থ মূলত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার হবে, নাগরিকদের চেক বিতরণের জন্য নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সরাসরি অর্থ বিতরণের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে এবং রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জনসমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

