আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত গাজী সালাহউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন,
“আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি — আমরা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৩০০ আসনই আমাদের লক্ষ্য। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি সম্মান দেখাব। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থান সম্মানের জায়গা থেকে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন,
“আমরা এমন এক রাজনীতির সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে টাকা-পয়সা বা প্রভাব নয়, বরং গ্রহণযোগ্যতা ও সততাই প্রার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড হবে। আমরা চাই একজন শিক্ষক, ইমাম, শ্রমজীবী বা সমাজের গ্রহণযোগ্য মানুষ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“যাদের এলাকাভিত্তিক প্রভাব আছে, যারা গডফাদারগিরি করে— সেই পুরোনো সংস্কৃতিকে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই। জনগণের মধ্যে যারা বিশ্বাস অর্জন করেছেন, তাদেরই আমরা প্রার্থী করব।”
জোট বা সমঝোতা প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন,
“আমাদের ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কারমূলক দাবিগুলোর সঙ্গে যদি অন্য কোনো রাজনৈতিক দল একমত হয় বা সংহতি জানায়, তবে আমরা রাজনৈতিক ঐক্যের বিষয়ে বিবেচনা করব। তবে আপাতত আমরা এককভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
নাহিদ ইসলাম জানান,
“এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে প্রাথমিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি নিজেদেরকে “ফ্যাসিবাদবিরোধী নাগরিক আন্দোলনের রাজনৈতিক রূপ” বলে দাবি করছে। দলটি সম্প্রতি আহত ও শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে এবং “নতুন নাগরিক রাজনীতি” গড়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নাহিদ ইসলামের ভাষায়,
“এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলেরও লড়াই। আমরা চাই জনগণের রাজনীতি, জনগণের প্রার্থীর জয় হোক।”

