বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

খুলনায় চিংড়ি রপ্তানি বেড়েছে ৪ হাজার টন, সফল ক্লাস্টার পদ্ধতি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

খুলনায় চিংড়ি রপ্তানিতে নতুন সাফল্য এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে জেলায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৬১ টন বেশি চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। মৎস্য চাষিদের দাবি, এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ।

খুলনা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছিল ১২ হাজার ৫৫৭ টন, গলদা চিংড়ি ১৩ হাজার ২০২ টন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাগদা উৎপাদন দাঁড়ায় ১২ হাজার ৫৪৩ টন, আর গলদা ১৩ হাজার ৮৭৮ টন। সে বছর রপ্তানি হয় ১৯ হাজার ৫১২ টন চিংড়ি, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ হাজার টন বেশি।

সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্পের আওতায় খুলনার কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, দাকোপসহ আটটি উপজেলায় ক্লাস্টার পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হয়েছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৫ সালে শেষ হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ২৫টি ঘেরকে একত্রে সংগঠিত করে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ করা হয়েছে। এতে পরিবহন খরচ কমেছে, সময়মতো মাছ সরবরাহ সম্ভব হয়েছে এবং চাষিরা পেয়েছেন ভালো দাম।

ডুমুরিয়ার মৎস্য চাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, “আগে চিংড়ি চাষে লোকসান হতো, কিন্তু এখন ক্লাস্টার পদ্ধতিতে একসঙ্গে মাছ ধরার ও বাজারে পাঠানোর কারণে লাভ হচ্ছে।”

দাকোপের চাষি সুবির রঞ্জন বলেন, “আগে মাছ শহরে পৌঁছাতে দেরি হতো, ফলে দাম কম পেতাম। এখন সময়মতো মাছ পৌঁছানো যাচ্ছে, লোকসানও কম।”

বটিয়াঘাটার চাষি কামরুল ইসলাম জানান, “অল্প মাছ পরিবহনে আগের খরচ ছিল বেশি। এখন একত্রে পাঠানোয় খরচ কমেছে, তবে আরও আধুনিক প্রশিক্ষণ দরকার।”

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, “ক্লাস্টার পদ্ধতির সাফল্যের কারণেই রপ্তানি বেড়েছে। প্রকল্প শেষ হলেও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন