ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারগুতির মুক্তি ‘অসম্ভব’ বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নিজেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি আমার আজকের দিনের প্রশ্ন ছিল। আমি একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি।”
২০০২ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ফাতাহ নেতা বারগুতি দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সময় একাধিক হামলার অভিযোগে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। বহু ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের কাছে তিনি ফিলিস্তিনি ঐক্যের প্রতীক এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
তবে ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছে—বারগুতিকে কোনো বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবেও মুক্তি দেওয়া হবে না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বলেছে, “তার মুক্তির প্রশ্নই আসে না—এখন বা ভবিষ্যতে।”
ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব নিয়েও ট্রাম্প তীব্র মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের এখন কোনো দৃশ্যমান নেতা নেই। কারণ যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন।” মাহমুদ আব্বাস সম্পর্কে তিনি বলেন, “তিনি সম্মানিত ও যুক্তিবাদী একজন মানুষ, তবে গাজার নেতৃত্ব দিতে পারবেন কিনা, নিশ্চিত নই।”
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই গাজা সফরে যেতে পারেন এবং সেখানে ‘বোর্ড অফ পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বও থাকতে পারেন।
তিনি দাবি করেন, “মধ্যপ্রাচ্য এখন ঐক্যবদ্ধ—হামাস ছাড়া।” তার ভাষায়, হামাস যদি অস্ত্র না ফেলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোকাবিলা করবে, “এবং কেউ আপত্তি করবে না।”
এদিকে, ফিলিস্তিনি আসরা মিডিয়া অফিস (এএমও) জানিয়েছে, সম্প্রতি ৬৬ বছর বয়সী বারগুতিকে এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে নেওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং তার চারটি পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে।

