বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এনসিপি নেতার অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও-ছবি ফাঁস

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সদস্য মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, প্রতারণা, মামলাবাণিজ্য, অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও কল সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে স্থানীয় জনগণের মাঝে।

সূত্র জানায়, স্থানীয় একাধিক কিন্ডারগার্টেন থেকে টাকা আত্মসাৎ ও নারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগে মেরাজুল ইসলামকে একাধিকবার শিক্ষকতার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়ে জেলার রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, বালু ব্যবসার নামে নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করছেন মেরাজুল ও তার সমর্থকরা। এতে নদীর পাড়ে ভাঙন ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে গ্রামবাসী। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

একাধিক নারী তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, ব্ল্যাকমেইল ও বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। একজন ভুক্তভোগী নারী সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন, যেখানে বর্ণনা করা হয়, কীভাবে মোবাইল ফোনে ব্যক্তিগত ছবি চুরি করে মেরাজুল ইসলাম তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন এবং অর্থ আদায় করেন।

রাজৈরের এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন, মেরাজুল তার নাম একটি মিথ্যা মামলায় ঢোকানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর এক ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি এ ধরনের ‘তালিকা বাণিজ্য’ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা বলেন।

অন্যদিকে মেরাজুল ইসলাম নিজে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “সব মিথ্যা ও সাজানো। কেউ যদি সঠিক প্রমাণ দিতে পারে, আমি নিজেই শাস্তি মাথা পেতে নেব।” তিনি দাবি করেন, একটি ফোন হারিয়ে গেছে, সেই ফোন থেকে তার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য হয়তো ছড়িয়েছে।

এনসিপির মাদারীপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, “দল সম্প্রসারণ হচ্ছে, কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি দলে ঢুকছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল হক বলেন, “বালু উত্তোলন সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মিথ্যা মামলা ও হয়রানি নিয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এ ধরনের অপকর্ম চলতেই থাকবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন