বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পর্যটক সংকটে সেন্টমার্টিন ছাড়ছেন রিসোর্ট মালিকরা, বাড়ছে সম্পত্তি বিক্রির হিড়িক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন যেন পর্যটন স্বর্গ থেকে পরিণত হয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দ্বীপে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় পর্যটন কার্যক্রম সীমিত করায় দ্বীপের প্রধান আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে একের পর এক রিসোর্ট বিক্রি করছেন স্থানীয় মালিকরা, কেউ কেউ পরিবারসহ দ্বীপই ছাড়ছেন।

দ্বীপবাসীদের প্রধান পেশা ছিল মাছ ধরা ও পর্যটন নির্ভর হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসা। কিন্তু গত বছর থেকে পর্যটক যাতায়াত ও রাত্রিযাপনে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর—পুরো দুই মাসই কার্যত পর্যটকশূন্য ছিল দ্বীপটি। এরপর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সীমিত সংখ্যক পর্যটকের অনুমতি মিললেও, মাত্র দুই মাসের আয়ে সারা বছরের সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

সেন্টমার্টিন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আবুল হোসেন বলেন, “রিসোর্ট থেকে প্রতি বছর যা আয় হতো, তাই দিয়েই চলতো সংসার। এখন কোনো আয় নেই, তাই বাধ্য হয়ে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন, “অনেকেই স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন, কেউ কেউ দ্বীপ ছেড়ে কাজের খোঁজে চলে গেছেন।”

সেন্টমার্টিন হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম জিহাদী অভিযোগ করে বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণের নামে দ্বীপবাসীর রুটি-রুজি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ পরিকল্পিতভাবে পর্যটন বিমুখ করার অংশ।”

তিনি জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচন ও রমজান—এই দুই সময়েও যদি পর্যটক না আসে, তাহলে দ্বীপের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

সরকারের পক্ষ থেকে সীমিত পর্যটকের অনুমতি দেওয়া হলেও, রাত্রিযাপন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, “নভেম্বর থেকে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে রাত্রিযাপন কবে থেকে চালু হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে।”

দ্বীপবাসীরা বলছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা হতে হবে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা রক্ষা করে। পর্যটন সীমিত করা হলে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি না করে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় মানুষজন, হারাবে তাদের স্বপ্ন আর স্বাভিমান।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন