বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) নতুন এক প্রতিবেদনে জানায়, তহবিল ঘাটতি ও অর্থ সংকটের কারণে ছয়টি দেশের মানুষ দ্রুত দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়েছে। গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম বড় পরিসরে সীমিত বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডব্লিউএফপির প্রকাশিত ‘A Lifeline at Risk’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়,
“এই ছয় দেশে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, দুর্ভিক্ষ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রয়োজন যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখনই বিশ্ব যেন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।”
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জরুরি প্রতিক্রিয়া বিভাগের পরিচালক রস স্মিথ বলেন:
“আমরা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে মানুষের কাছ থেকে শেষ ভরসাটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সহায়তা বন্ধ হওয়ায় কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে।”
আর খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জ্যা-মার্টিন বাওয়ার সতর্ক করে বলেন,
“এটি শুধু পরিসংখ্যান নয়—এরা সবাই মানুষ, মা ও শিশু, যাদের পাতে খাবার নেই। প্রথমবার আমরা একসাথে দুটি দুর্ভিক্ষ (গাজা ও সুদান) দেখতে যাচ্ছি।”
অঞ্চলভিত্তিক ভয়াবহতা:
গাজা: যুদ্ধবিরতি চললেও খাদ্য প্রবেশে বাধা ও তহবিল সংকটে বিপুল সংখ্যক মানুষ অনাহারে পড়ার আশঙ্কা।
সুদান: ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট। আগস্টে ৪১ লাখ মানুষকে সহায়তা দেওয়া হলেও, বাস্তবে ৮০ লাখের বেশি মানুষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত।
আফগানিস্তান: ১ কোটির মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ পাচ্ছে খাদ্য সহায়তা। শীতকালে তা আরও কমে ৮ শতাংশে নামবে।
সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদান: বন্যা ও অর্থ সংকটে খাদ্য সহায়তা ৭৫% পর্যন্ত কমেছে। অনেক এলাকায় খাদ্য বিতরণ বন্ধ।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতে, অর্থ না থাকায় তাদের খাদ্য সহায়তার ভিত্তি ভেঙে পড়ছে। তহবিল না জোগাড় হলে শুধু ২০২৫ নয়, ২০২৬ সালেও দুর্ভিক্ষ ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
“মানবিক সহায়তা যেন এখন বিশ্বের প্রাধান্য তালিকার নিচে। রাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ ও সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের পেছনে খাদ্য, চিকিৎসা ও মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে বিস্মৃতিতে।” — মানবাধিকার বিশ্লেষক, আলেকজান্ডার হেইস

